উদ্ভিদ জগৎ : বিস্ময়কর প্রজাতি
পৃথিবীতে প্রায় চার লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এরমধ্যে অনেক বিস্ময়কর প্রজাতি রয়েছে।
কম্পাস গাছঃ এ গাছগুলোর পাতা কম্পাসের মত উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে। উত্তর আমেরিকায় পাওয়া যায়।
ডিজেল গাছঃ এ গাছের কাণ্ড থেকে তেল বের হয়। এ তেল দিয়ে ডিজেলের কাজ হয়। প্রতি ৬ মাস পর পর একটি গাছ থেকে প্রতি ঘন্টায় ৭-১০ লিটার তেল বের হয়। ব্রাজিলে এ গাছ আছে।
রেইন ট্রিঃ প্রচণ্ড রোদের সময় বাতাস থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প শোষণ করে। পরে গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বৃষ্টির আকারে পড়ে। পেরুতে এ গাছ আছে।
জেনারেল শেরম্যানঃ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ওজনের গাছ। গাছটির ওজন হয় প্রায় দুই হাজার টন। ক্যালিফোর্নিয়াতে এ গাছ পাওয়া যায়।
স্প্রাসঃ গাছটি খুবই ছোট। বরফে আবৃত থাকে। গাছের বীজ দশ হাজার বছরের পুরনো হলেও গাছ জন্মে। লুপিন গাছের বীজও দশ হাজার বছর পর্যন্ত জীবন্ত থাকে। কানাডায় এ গাছ পাওয়া যায়।
মানুষ খেকো গাছঃ এই গাছের কাছে মানুষ গেলে ডালপালা দ্বারা আঁকড়ে ধরে গাছের গহ্বরে মানুষের দেহ ঢুকিয়ে নেয়। এদের ডালপালা কেটে শক্তিহীন করে রাখা হয়। ফলে খাদ্য না পেয়ে অনেক গাছ মারা যাচ্ছে। পৃথিবীতে প্রায় ৫০০ প্রকারের মাংসাসী গাছ আছে। কঙ্গোর গহীন জঙ্গলে এ গাছ আছে।
পতঙ্গভূক গাছঃ ড্রাসিরা ও ঝাঝিয়ো গাছে পোকা বসলে গাছের ভেতর টেনে নেয়। পাতা ও ফুল দেখে পোকা আকৃষ্ট হয়। বাংলাদেশের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশের কলসীগাছও পোকা খায়। আমেরিকার ‘ডায়োনিয়া’ নামের উদ্ভিদ পোকা-মাকড় খায়।
সর্ববৃহৎ ফুল গাছঃ সুমাত্রা জঙ্গলের র্যাফ্রেসিয়া আরনও গাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুল ধরে। উষ্ণ রক্তবর্ণ এই ফুল পীড়াদায়ক দুর্গন্ধযুক্ত।
পুরু রাইমন্তিঃ বলিভিয়ার এই ফুল পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতিতে ফোটে। ফুলটি ফুটতে ১৫০ বছর সময় লাগে।
লজ্জাবতীঃ গাছের পাতার কাছে কেউ গেলে বা কিছু স্পর্শ লাগলে লজ্জায় পাতা চাপিয়ে ফেলে। বাংলাদেশে এ গাছ প্রচুর পাওয়া যায়।
চিনি গাছঃ ডগলাস ফার নামের গাছ থেকে চিনি পাওয়া যায়। এই গাছে প্রচুর কাটা থাকে। কাঁটায় সরু ছিদ্র দিয়ে মিষ্টি রস বের হয়ে পাতায় জমা হয়। রস শুকিয়ে চিনি তৈরি হয়। গাছটি উত্তর আমেরিকায় পাওয়া যায়।
চুল গাছঃ এই গাছের পাতা অবিকল চুলের মত। অস্ট্রেলিয়ায় এ গাছ পাওয়া যায়।
ক্যাকটাসঃ পৃথিবীতে ১৭০০ প্রজাতির ক্যাকটাস আছে। পেয়োটল নামক ক্যাকটাস গাছের রস পান করলে চোখে সামনে উজ্জ্বল রঙ্গিন অদ্ভূত অস্বাভাবিক সব দৃশ্য ভেসে ওঠে এবং বিচিত্র সব শব্দ শোনা যায়। আমেরিকার আজটেক ও টোলটেক আদিবাসীরা এই রস পান করে।
প্রাচীন বৃক্ষঃ ব্রিসলকোন পাইন নামের গাছের বয়স প্রায় ৫ হাজার বছর। সানফ্রান্সিসকো শহরে এ গাছ পাওয়া যায়।
পাউরুটি গাছঃ এই ফলের গাছটি দেখতে খুব সুন্দর। উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট হয়। এই গাছে বীজহীন ও বীজপূর্ণ দুই রকমের পাউরুটি ফল ধরে। বীজপূর্ণ ফলটি সিদ্ধ করলে বা ভাজলে বাদামের মত স্বাদ হয়। এটি পাওয়া যায় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে।
লাইকেনঃ গাছটি সবচেয়ে কম বৃদ্ধি পায়। ৫০ বছরে মাত্র এক হাত বাড়ে। এসব গাছের বয়স ২০০ বছর।
মোকাইয়াঃ গাছের ওজন ২ হাজার টন হয়। গাছটি ৪ হাজার বছর পর্যন্ত বাঁচে।
রেড উডঃ লম্বা হয় ৩৭০ থেকে ৩৯০ ফুট পর্যন্ত। ৭ হাজার বছর বাঁচে। বেড় হয় ১০০ থেকে ১২০ ফুট। উত্তর আমেরিকায় পাওয়া যায়।
কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন